NISC logo

Saturday, March 21, 2015

3D Movie

          আমরা জানি, কোনো বস্তুর তিনটি মাত্রা থাকে: দৈর্ঘ, প্রস্থ এবং উচ্চতা বা গভীরতা। 2D (2 Dimensional) বা দ্বিমাত্রিক ছবি বা ভিডিওতে শুধুমাত্র দৈর্ঘ এবং প্রস্থ থাকে, উচ্চতা বা গভীরতা থাকেনা। 3D (3 Dimensional) বা ত্রিমাত্রিক ছবি বা ভিডিওতে দৈর্ঘ, প্রস্থ এবং উচ্চতা বা গভীরতা তিনটি মাত্রাই থাকে। 

          আমরা দুচোখ দিয়ে দেখলে কোনো বস্তুর গভীরতা বুঝতে পারি, কিন্তু একচোখ দিয়ে দেখলে পারিনা। একটা খুব সহজ পর্যবেক্ষণ করা যাক।

  • নিজের চোখের সামনে নাক বরাবর ১টা আঙ্গুল রাখুন।
  • এবার, বাম চোখ বন্ধ করে ডান চোখ দিয়ে দেখুন, আঙ্গুলের ডানদিকটা দেখতে পাচ্ছেন, কিন্তু বামদিকটা দেখতে পাচ্ছেননা।
  • এবার, ডান চোখ বন্ধ করে বাম চোখ দিয়ে দেখুন, আঙ্গুলের বামদিকটা দেখতে পাচ্ছেন, কিন্তু ডানদিকটা দেখতে পাচ্ছেননা।
  • এবার, দুচোখ দিয়েই দেখুন, আঙ্গুলের ডানদিক এবং বামদিক -দুদিকই দেখতে পাচ্ছেন।

          বাম চোখ বন্ধ করে ডান চোখ দিয়ে আঙ্গুলের ডানদিকে যে অংশটা দেখছিলেন, সেটা ডানদিক দিয়ে আঙ্গুলটার গভীরতা। একইভাবে ডান চোখ বন্ধ করে বাম চোখ দিয়ে আঙ্গুলের বামদিকে যে অংশটা দেখছিলেন, সেটা বামদিক দিয়ে আঙ্গুলটার গভীরতা। যখন দুচোখ দিয়ে দেখছেন, আঙ্গুলটার দুদিকেরই গভীরতা দেখতে পাচ্ছেন। 
          এখন, প্রশ্ন হতে পারে, একচোখ দিয়ে দেখলে তো একদিকের গভীরতা দেখা যাচ্ছে, তো দুচোখের কি দরকার? একচোখ দিয়ে দেখলে, একদিকের গভীরতা সহ বস্তুটিকে যেভাবে দেখছি, সেটাতো একটা 2D (2 Dimensional) বা দ্বিমাত্রিক তলে ছবিও হতে পারে। তাই, দুচোখ দিয়ে দেখা উভয়দিকের গভীরতা সহ দুটি দৃষ্টি যখন মস্তিষ্কে গিয়ে মিশছে, আমরা সম্পূর্ণ 3D (3 Dimensional) বা ত্রিমাত্রিক বস্তু দেখছি।



           আমাদের দুচোখের মনির মধ্যে দুরত্ব ২.৫ ইঞ্চি। একে বলা হয়, Inner Pupilary Distance (IPD)। 3D (3 Dimensional) বা ত্রিমাত্রিক ছবি তোলা হয় দুটো ক্যামেরা দিয়ে। ক্যামেরা দুটোর মধ্যে দুরত্ব রাখা হয় ২.৫ ইঞ্চি। যখন 3D (3 Dimensional) বা ত্রিমাত্রিক ছবি তোলা হয়, ক্যামেরা দুটো আমাদের দুচোখের মত কাজ করে। অর্থাৎ, ডানদিকের ক্যামেরায় ডানদিকের গভীরতা সহ দৃশ্য তোলা হয়, এবং বামদিকের ক্যামেরায় বামদিকের গভীরতা সহ দৃশ্য তোলা হয়। এবার, এমন ভাবে ছবি দুটোকে রাখা হয়, যাতে ডান চোখ দিয়ে ডানদিকের ক্যামেরার ছবি দেখা যায় কিন্তু বামদিকের ক্যামেরার ছবি দেখা যায়না, এবং বাম চোখ দিয়ে বামদিকের ক্যামেরার ছবি দেখা যায় কিন্তু ডানদিকের ক্যামেরার ছবি দেখা যায়না। 3D (3 Dimensional) বা ত্রিমাত্রিক দৃশ্য দেখার পদ্ধতিকে বলা হয়, Stereoscope এবং ক্যামেরা দুটি দিয়ে তোলা ছবি দুটিকে বলা হয় Stereogram।




ইতিহাস :

          ১৮৩৮ সালে সর্বপ্রথম Stereoscopic ছবি তৈরী হয়। এটি তৈরী করেন Sir Charles Wheatstone। একটা বাক্সের একদিকে চোখ দিয়ে দেখার মত জায়গা কেটে নিয়ে পাশের ছবির মত ৪টে আয়না আর ছবিদুটো রেখে মাঝের আয়না দুটোয় দুচোখ রেখে দেখা হত।

এবার, মাঝের আয়না দুটো একটু ঘুরিয়ে দেখলেই প্রতিফলনের সুত্র অনুযায়ী দৃশ্যটি কাছে আসবে বা দূরে চলে যাবে।  

এই Stereoscope-টিকে বলা হয় Wheatstone Mirror Stereoscope।


          এরপর ১৮৪৯ সালে David Brewster সর্বপ্রথম Stereoscope-এ লেন্স ব্যবহার করার ধারণা দেন। লেন্স ব্যবহারের ফলে আমাদের চোখের ফোকাস দৈর্ঘ্য পরিবর্তন হয়ে সঠিক ভাবে আমরা দৃশ্যটি দেখতে পাই। Stereoscope-টি তৈরী করেন Jules Duboscq।

এই Stereoscope-টিকে বলা হয় Brewster Stereoscope।

          এরপর ১৮৬১ সালে Oliver Wendell Holmes অন্যরকম ভাবে (লেন্সের ব্যবহার করেই) Stereoscope-এর রূপদান করেন।

এই Stereoscope-টিকে বলা হয় Holmes Stereoscope অথবা Mexican Stereoscope।



বর্তমান :

  • Anaglyph System :

          বর্তমান যুগে আলোক বিজ্ঞান এবং বর্ণালী তত্বের ভিত্তিতে  Stereoscopic ছবি তৈরী করা হয়। আমরা জানি, লাল (Red) রঙের পরিপূরক রঙ সবজে নীল (Cyan)। অর্থাৎ, লাল (Red) আর সবজে নীল (Cyan) মেশালে আমরা সাদা রঙ পাবো, আবার সাদা থেকে লাল (Red) বের করে নিলে পড়ে থাকবে সবজে নীল (Cyan) এবং সাদা থেকে সবজে নীল (Cyan) বের করে নিলে পড়ে থাকবে লাল (Red)। একটা ছোট্ট পর্যবেক্ষণ করে দেখা যাক যে লাল (Red) আর সবজে নীল (Cyan) পরস্পরের পরিপূরক রঙ। নীচের লাল (Red) বৃত্বের কেন্দ্রের কালো বিন্দুটির দিকে প্রায় ৩০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুন, তারপর পাশের সাদা জায়গায় তাকান, এবার কি রং দেখছেন বলুন তো?
 
          এবার ডানদিকের ক্যামেরার ছবি আর বামদিকের ক্যামেরার ছবি যখন মেশানো হয়, ডানদিকের ক্যামেরার ছবি থেকে সব লাল (Red) রঙ বের করে নেওয়া হয়, ফলে ছবিটা সবজে নীল (Cyan) রঙের হয়। একইভাবে বামদিকের ক্যামেরার ছবি থেকে সব সবজে নীল (Cyan) রঙ বের করে নেওয়া হয়, ফলে ছবিটা লাল (Red) রঙের হয়। এই ধরনের Stereoscopic ছবিকে বলা হয় Anaglyph।

          এই Anaglyph ছবি দেখার জন্য একটি বিশেষ চশমা তৈরী করা হয়। এই চশমার ডানদিকের কাঁচটা হয় সবজে নীল (Cyan) এবং বামদিকের কাঁচটা হয় লাল (Red) রঙের। আলোকবিজ্ঞান এবং বর্ণালী তত্ব অনুযায়ী কোনো নির্দিষ্ট রঙের অস্বচ্ছ বস্তু  শুধু সেই রঙটিকেই প্রতিফলিত করে (এই জন্য কোনো নির্দিষ্ট রঙের বস্তুকে আমরা সেই রঙেরই দেখি) বা নির্দিষ্ট রঙের স্বচ্ছ বস্তু শুধু সেই রঙটিকেই পার করায় এবং বাকি আর সব রঙ শোষণ করে নেয়। সুতরাং, Anaglyph চশমার ডানদিকের কাঁচ দিয়ে Anaglyph ছবির ডানদিকের ক্যামেরার ছবি দেখা যাবে কিন্তু বামদিকের ক্যামেরার ছবি দেখা যাবেনা। আবার, Anaglyph চশমার বামদিকের কাঁচ দিয়ে Anaglyph ছবির বামদিকের ক্যামেরার ছবি দেখা যাবে কিন্তু ডানদিকের ক্যামেরার ছবি দেখা যাবেনা। এইভাবে দুচোখে দুটি পরস্পর পরিপূরক রঙের ছবি আমাদের মস্তিষ্কে গিয়ে মিশে  আমরা সম্পূর্ণ 3D (3 Dimensional) বা ত্রিমাত্রিক ছবি দেখি। Wilhelm Rollmann ১৮৫৩ সালে প্রথম Anaglyph ছবির পদ্ধতি শুরু করেন।


          বর্তমান যুগের বহুল প্রচলিত 3D (3 Dimensional) Movie বা ত্রিমাত্রিক চলচ্চিত্রের ভিডিও রেকর্ড করা হয় দুটো ক্যামেরা দিয়েই একইভাবে ক্যামেরা দুটোর মধ্যে ২.৫ ইঞ্চি দুরত্ব রেখে। এখানেও ক্যামেরা দুটো আমাদের দুচোখের মতই কাজ করে। অর্থাৎ, ডানদিকের ক্যামেরায় ডানদিকের গভীরতা সহ দৃশ্য রেকর্ড হয়, এবং বামদিকের ক্যামেরায় বামদিকের গভীরতা সহ দৃশ্য রেকর্ড হয়। একইভাবে ভিডিও দুটোর রঙ পরিবর্তন করে Anaglyph ভিডিও তৈরী করা হয়। এবার ধরা যাক, কোনো ফুটবল খেলার দৃশ্যে আছে যে ফুটবলটা দর্শকের দিকে তেড়ে আসছে -সুক্ষ্ম ভাবে বলা যায়, ফুটবলটা দর্শকের দুচোখের মাঝখানের দিকে তেড়ে আসছে। এই ভিডিও রেকর্ড করার সময় আসলে ফুটবলটা ক্যামেরা দুটোর মাঝখানে তেড়ে আসছিল, অর্থাৎ ফুটবলটা ডানদিকের ক্যামেরার বামদিকে এবং বামদিকের ক্যামেরার ডানদিকে ছিল। এবার যখন Anaglyph ভিডিও তৈরী হচ্ছে, ডানদিকের ক্যামেরায় তোলা সবজে নীল (Cyan) রঙের ফুটবল আর বামদিকের ক্যামেরায় তোলা লাল (Red) রঙের ফুটবলের মধ্যে দুরত্ব অনেকটাই, আবার ডানচোখ দিয়ে দেখা ফুটবলটা বামদিকে আর বামচোখ দিয়ে দেখা ফুটবলটা ডানদিকে, অর্থাৎ আমাদের দুচোখের দৃষ্টি কিছুটা কৌণিক হয়ে পরস্পর পরস্পরকে ছেদ করছে। এই ছেদবিন্দুটি তৈরী হচ্ছে পর্দা আর দর্শকের মাঝখানে এবং এই ছেদবিন্দুতেই তৈরী হচ্ছে ত্রিমাত্রিক ফুটবলের আকার। তাই মনে হয় যে, ফুটবলটা পর্দা থেকে বেড়িয়ে আমাদের দিকে তেড়ে আসছে। Edwin S Porter ১৯১৫ সালে প্রথম Anaglyph চলচ্চিত্রের পদ্ধতি শুরু করেন।
 
Anaglyph পদ্ধতির দুটি অসুবিধা আছে :
  • যারা বর্ণান্ধ তারা Anaglyph ছবি বা Anaglyph চলচ্চিত্র ঠিকমত দেখতে পাবেনা।
  • রঙের সমস্যা :
          আলোকবিজ্ঞান এবং বর্ণালী তত্ব অনুযায়ী প্রধান বা মৌলিক রঙ তিনটি: লাল (Red), সবুজ (Green), নীল (Blue) -এই তিনটি রঙ সমান ভাবে মিশলে সাদা রঙ পাওয়া যায়। এই পদ্ধতিকে বলা হয় RGB Color Model। এই তিন রঙের মধ্যে যেকোনো দুটি রঙ সমান ভাবে মিশলে কি রঙ পাওয়া যাবে দেখা যাক:

          প্রধান বা মৌলিক রঙগুলো অন্যান্য অনুপাতে মিশলে সবজে নীল (Cyan), বেগুনী (Magenta), হলুদ (Yellow) ছাড়াও অন্যান্য যৌগিক রঙ পাওয়া যায়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়,
      কমলা (Orange) = লাল (Red) + হলুদ (Yellow)
=> কমলা (Orange) = লাল (Red) + লাল (Red) + সবুজ (Green)
                                                      [ হলুদ (Yellow) = লাল (Red) + সবুজ (Green) ]
অর্থাৎ, লাল (Red) আর সবুজ (Green) ২:১ অনুপাতে মিশলে কমলা (Orange) পাওয়া যায়।
          এবার ধরা যাক, কোনো ছবিতে কোথাও নীল (Blue) রঙ আছে। সেই ছবির ডানদিকের Stereogram তৈরী করতে হলে ছবিটা থেকে সব সবজে নীল (Cyan) রঙ বের করে নিতে হবে, ফলে ছবির যেখানে নীল (Blue) রঙ আছে, সবজে নীল (Cyan) রঙের সাথে নীল (Blue) রঙও বেড়িয়ে যাওয়ার জন্য সেখানটা কালো (Black) হয়ে যাবে। এই জন্য Anaglyph ছবিতে বা Anaglyph চলচ্চিত্রে রঙের সমস্যা থাকে।

  • Shutter 3D System :

          আমাদের চোখে দেখা কোনো দৃশ্য আমাদের মস্তিষ্কে ১ সেকেন্ডের ১০ ভাগের ১ ভাগ সময় স্হায়ী হয়। এর ওপর ভিত্তি করেই Shutter 3D System পদ্ধতিটি তৈরী হয়েছে। এই পদ্ধতিতে একসাথে দুটি প্রজেক্টার এবং Shutter 3D চশমা ব্যবহার করা হয়, কিন্তু ছবি বা ভিডিওর কোনো পরিবর্তন করা হয়না। ডানদিকের প্রজেক্টারে ডানদিকের ক্যামেরায় রেকর্ড করা ভিডিও এবং বামদিকের প্রজেক্টারে বামদিকের ক্যামেরায় রেকর্ড করা ভিডিও চালানো হয়। ডানদিকের প্রজেক্টার চালিয়ে ১ সেকেন্ডের ১০ ভাগের ১ ভাগেরও কম সময় পর সেটা বন্ধ করে বামদিকের প্রজেক্টার চালানো হয়, এবং সেটাকেও ১ সেকেন্ডের ১০ ভাগের ১ ভাগেরও কম সময় পর বন্ধ করে আবার ডানদিকের প্রজেক্টার চালানো হয় -এইভাবে পর্যায়ক্রমে দুটি প্রজেক্টারই চলতে থাকে। যে Shutter 3D চশমা ব্যবহার করা হয় তার কাঁচে একটি বিশেষ স্বচ্ছ পদার্থ থাকে, যাতে বিদ্যুত প্রয়োগ করলে সেটি অস্বচ্ছ এবং অন্ধকার হয়ে যায়। যখন ডানদিকের প্রজেক্টার চালানো থাকে, তখন Shutter 3D চশমার বামদিকের কাঁচে বিদ্যুত প্রয়োগ করা হয়, ফলে দর্শক বামদিকের চোখে কিছু দেখতে পায়না, ডানদিকের চোখ দিয়ে ডানদিকের ছবি বা ভিডিও দেখে। একইভাবে যখন বামদিকের প্রজেক্টার চালানো থাকে, তখন Shutter 3D চশমার ডানদিকের কাঁচে বিদ্যুত প্রয়োগ করা হয়, ফলে দর্শক ডানদিকের চোখে কিছু দেখতে পায়না, বামদিকের চোখ দিয়ে বামদিকের ছবি বা ভিডিও দেখে। Shutter 3D চশমায় বিদ্যুত প্রয়োগের পর্যায়ক্রম আর প্রজেক্টার দুটির পর্যায়ক্রম মেলানো হয় বেতার পদ্ধতিতে। এইভাবে আমাদের মস্তিষ্কে বামদিকের ছবি থাকতে থাকতেই ডানদিকের ছবি এসে যাচ্ছে এবং ডানদিকের ছবি থাকতে থাকতেই বামদিকের ছবি এসে যাচ্ছে -এটি পর্যায়ক্রমে চলতে থাকার ফলে আমরা 3D (3 Dimensional) Movie বা ত্রিমাত্রিক চলচ্চিত্র দেখছি।
          ১৯২২ সাল থেকে এই পদ্ধতিটি শুরু হয়। তখনও Shutter 3D চশমা তৈরী হয়নি, প্রেক্ষাগৃহের প্রতিটি আসনে একটা করে দেখার যন্ত্র থাকত, তাতে যান্ত্রিক ভাবে ডানদিক-বামদিকের চোখের জায়গা দুটো পর্যায়ক্রমে খুলত বা বন্ধ হত (এই পর্যায়ক্রম প্রজেক্টার দুটির পর্যায়ক্রমের সাথে কিকরে মেলানো হত?)। Shutter 3D চশমা প্রথম তৈরী করেন Stephen McAllister ১৯৭০এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে।

এই পদ্ধতির অসুবিধা :
  • যেহেতু প্রজেক্টার দুটি পর্যায়ক্রমে চলতে থাকে আর বন্ধ হতে থাকে, দর্শকের মনে হতে পারে যে ভিডিওটা মিটমিট করছে।
  • অন্যান্য পদ্ধতির থেকে ফ্রেম রেট দ্বীগুন হতে হবে, কারন এই পদ্ধতিতে একই ফ্রেমের একবার ডানদিকের দৃশ্য আর একবার বামদিকের দৃশ্য দুটো প্রজেক্টার থেকে আলাদা করে দেখানো হয়।
  • Shutter 3D চশমা খুবই ব্যয়বহুল।

  • Polarized 3D System :

          আমরা জানি, আলো এক ধরনের তড়িৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গ। আলোক উৎসের যেকোনো বিন্দু থেকে সব দিকেই প্রত্যেক দিকে বিভিন্ন তলে তরঙ্গ বেরিয়ে আসে। কোনো একটা দিকের বিভিন্ন তলের তরঙ্গগুলোর মধ্যে থেকে যেকোনো একটা তরঙ্গ বেছে নেওয়া যায় Polarizer বা Polarizing ফিল্টার ব্যবহার করে। Polarizer বা Polarizing ফিল্টার উল্লম্ব (Vertical), অনুভূমিক(Horizontal), বা অন্যান্য কোনের হয় -অর্থাৎ, উল্লম্ব (Vertical) বা অনুভূমিক (Horizontal) Polarizer যথাক্রমে উল্লম্ব (Vertical) তরঙ্গকে পার হতে দেবে কিন্তু অন্য তরঙ্গগুলোকে আটকে দেবে, বা, অনুভূমিক (Horizontal) তরঙ্গকে পার হতে দেবে কিন্তু অন্য তরঙ্গগুলোকে আটকে দেবে। কোনো Polarizer বা Polarizing ফিল্টার যে নির্দিষ্ট তলের তরঙ্গকে পার হতে দেয় সেই তলের কোনের মাপকে ওই Polarizer বা Polarizing ফিল্টারের Polarity বলা হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, উল্লম্ব (Vertical) Polarizer বা Polarizing ফিল্টারের Polarity ৯০° এবং অনুভূমিক(Horizontal) Polarizer বা Polarizing ফিল্টারের Polarity ০°।
          Polarized পদ্ধতিতে একটা প্রজেক্টারেই দুটো ভিডিও (ডানদিকের এবং বামদিকের ক্যামেরায় রেকর্ড করা ভিডিও) ১ সেকেন্ডের ১০ ভাগের ১ ভাগের কম সময় পর পর পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন করে দেখানো হয়। প্রজেক্টারের সামনে একটা Polarizer বা Polarizing ফিল্টার ব্যবহার করা হয়, যা পর্যায়ক্রমে নিজের Polarity পরিবর্তন করতে পারে। এই Polarizer বা Polarizing ফিল্টারের পর্যায়ক্রম প্রজেক্টারের পর্যায়ক্রমের সাথে মেলানো থাকে। ধরা যাক, যখন ডানদিকের ভিডিও দেখানো হচ্ছে, Polarizer বা Polarizing ফিল্টারের Polarity থাকছে ৯০°, এবং যখন বামদিকের ভিডিও দেখানো হচ্ছে, Polarizer বা Polarizing ফিল্টারের Polarity থাকছে ০°। ফলে ডানদিকের ক্যামেরায় রেকর্ড করা ভিডিও পর্দায় ৯০° Polarized হয়ে পড়ছে এবং বামদিকের ক্যামেরায় রেকর্ড করা ভিডিও পর্দায় ০° Polarized হয়ে পড়ছে। দর্শক যে Polarized চশমায় দেখছে, তার ডানদিকে ৯০° Polarity-র Polarizer বা Polarizing ফিল্টার এবং বামদিকে ০° Polarity-র Polarizer বা Polarizing ফিল্টার আছে। এইভাবে পর্দা থেকে প্রতিফলিত হয়ে প্রজেক্টার থেকে Polarized ভাবে নির্গত ডানদিকের দৃশ্য ডানচোখে আর বামদিকের দৃশ্য বামচোখে এসে মস্তিষ্কে গিয়ে মিশলে আমরা 3D (3 Dimensional) Movie বা ত্রিমাত্রিক চলচ্চিত্র দেখতে পাই। Polarized 3D System প্রথম ব্যবহার করেন Edwin H. Land ১৯৩৬ সালে।

এই পদ্ধতির অসুবিধা :
  • এই পদ্ধতির প্রধান অসুবিধা হলো, দর্শককে সবসময় সোজা হয়ে থাকতে হবে। একটু বেঁকে গেলেই Polarized চশমার Polarity-র কোন পরিবর্তন হয়ে অন্য তলে চলে যাবে, ফলে পর্দা থেকে নির্দিষ্ট কোনে এবং নির্দিষ্ট তলে প্রতিফলিত দৃশ্য দেখা যাবেনা।
  • পর্দা এমন হতে হবে যে প্রতিফলিত তরঙ্গটাও একইরকম Polarized থাকে, প্রতিফলিত হওয়ার পর সাধারন তরঙ্গ না হয়ে যায়।

  • Autostereoscopy :

         কোনো খবরের কাগজ বা অন্য কিছু যাতে ছোট হরফে লেখা আছে, এরকম কিছু গোল করে চোঙের মতো মুড়িয়ে চোখের সামনে উল্লম্ব (Vertical) ভাবে রেখে বামচোখ বন্ধ করে ডানচোখ দিয়ে দেখুন, ডানদিকের কিছু লেখা দেখতে পাচ্ছেন কিন্তু বামদিকের কিছুটা লেখা দেখতে পাচ্ছেননা, আবার ডানচোখ বন্ধ করে বামচোখ দিয়ে দেখুন, বামদিকের কিছু লেখা দেখতে পাচ্ছেন কিন্তু ডানদিকের কিছুটা লেখা দেখতে পাচ্ছেননা। এর ওপর ভিত্তি করেই Autostereoscopy তৈরী হয়েছে। এই পদ্ধতিতে উভয় দিকের দৃশ্য দুটি সমান সংখ্যক সরু সরু উল্লম্ব ফালিতে (Vertical slice) ভাগ করা হয়। এবার, একভাগ বামদিকের দৃশ্যর পর একভাগ ডানদিকের দৃশ্য রেখে আবার পরের একভাগ বামদিকের দৃশ্যর পর পরের একভাগ ডানদিকের দৃশ্য রেখে এভাবে পরপর পর্দায় সাজানো হয়। সাজানো শুরু হয় বামদিকের দৃশ্যর প্রথম ভাগ দিয়ে আর শেষ হয় ডানদিকের দৃশ্যর শেষ ভাগ দিয়ে। এরপর, পরপর প্রত্যেক জোড়া ভাগের ওপর অর্ধেক চোঙের আকারের লেন্স বসানো হয়। ফলে লেন্সের বামদিক দিয়ে বামচোখের দৃশ্য এবং লেন্সের ডানদিক দিয়ে ডানচোখের দৃশ্য বেরিয়ে আসে। যেহেতু ডানচোখ দিয়ে চোঙের বামদিক এবং বামচোখ দিয়ে চোঙের ডানদিক দেখা যায়না, এই পদ্ধতিতে কোনো চশমা ছাড়াই ডানদিকের দৃশ্য শুধু ডানচোখে এবং বামদিকের দৃশ্য শুধু বামচোখে দেখা যাবে।

এই পদ্ধতির অসুবিধা :
এই পদ্ধতিতে মোটামোটি IPD (Inner Pupilary Distance)-র মাপের মতো পর্দা (Mobile, I-pod, Pocket video game etc.) ছাড়া বড় পর্দায় 3D (3 Dimensional) Movie বা ত্রিমাত্রিক চলচ্চিত্র বা ছবি দেখা যাবেনা। 



3D TV :
          দূরদর্শনের পর্দায় Active এবং Passive দু-ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। Active পদ্ধতিতে Shutter এবং Passive পদ্ধতিতে Polarized প্রযুক্তি ব্যবহার হয়। 3D (3 Dimensional) বা ত্রিমাত্রিক দূরদর্শনে সম্প্রচারিত দৃশ্য থেকে ডানদিকের এবং বামদিকের দৃশ্য আলাদা করার জন্য ইন্টিগ্রেটেড চিপ আর সফ্টয়ার থাকে।

  • Active Shutter :

          Shutter 3D System আমরা আগে আলোচোনা করেছি, একই পদ্ধতি এখানেও প্রয়োগ করা হয়। চলচ্চিত্রেসর্বাধিক ফ্রেম রেট থাকে ৩০, অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে আমাদের চোখের সামনে দিয়ে ৩০টা ফ্রেম চলে যায়। যেহেতু এই পদ্ধতিতে প্রত্যেকটি ফ্রেম ডানদিক এবং বামদিক উভয় দিক থেকেই দুবার করে দেখানো হয়, এখানে ফ্রেম রেট থাকে ৬০। সেকেন্ডে ৬০টি ফ্রেম দেখানোর জন্য ফ্রেম পরিবর্তন করতে হয় প্রতি সেকেন্ডে ১২০ বার। বলা বাহুল্য, এই পদ্ধতিতে 3D (3 Dimensional) Movie বা ত্রিমাত্রিক চলচ্চিত্র দেখার জন্য Shutter 3D চশমা ব্যবহার করা হয়।

  • Passive Polarized :

          দূরদর্শনের পর্দায় এই পদ্ধতির ব্যবহার জানার আগে LED পর্দার ব্যাপারে জানতে হবে। তারও আগে জানতে হবে, LED কি? LED (Light Emitting Diode) তড়িৎ-এর এক প্রকার অর্ধ-পরিবাহী যা আলো বিকীরণ করে। Anaglyph পদ্ধতির অসুবিধা আলোচনা করার সময় আমরা রঙের ব্যাপারে জেনেছি, এখানেও RGB Color Model ব্যবহার করা হয়। LED পর্দা আসলে বিভিন্ন অনুভূমিক সারিতে রাখা প্রচুর লাল, সবুজ, নীল রঙের LED-র সজ্জা।

           LED গুলোর উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে-কমিয়ে অন্যান্য রঙ তৈরী করা হয়। উদাহরণ হিসেবে Firefox-এর একটি লোগো বড় করে দেখা যাক :
                 
এখানে রঙগুলো যেভাবে তৈরী হয়েছে :
  • লাল : যে অংশে লাল আছে, সেখানে প্রত্যেক লাল, সবুজ, নীল রঙের LED-র মধ্যে লাল LEDটা উজ্জ্বল হয়ে জ্বলছে আর বাকি দুটো বন্ধ।
  • কমলা : যে অংশে কমলা আছে, সেখানে প্রত্যেক লাল, সবুজ, নীল রঙের LED-র মধ্যে লাল LEDটা উজ্জ্বল হয়ে জ্বলছে, সবুজ LEDটা অনুজ্জ্বল হয়ে জ্বলছে আর নীল LEDটা বন্ধ।
  • হলুদ : যে অংশে হলুদ আছে, সেখানে প্রত্যেক লাল, সবুজ, নীল রঙের LED-র মধ্যে লাল আর সবুজ LED দুটো উজ্জ্বল হয়ে জ্বলছে আর নীল LEDটা বন্ধ।
  • নীল : যে অংশে নীল আছে, সেখানে প্রত্যেক লাল, সবুজ, নীল রঙের LED-র মধ্যে নীল LEDটা উজ্জ্বল হয়ে জ্বলছে আর বাকি দুটো বন্ধ।
  • আকাশী : যে অংশে আকাশী আছে, সেখানে প্রত্যেক লাল, সবুজ, নীল রঙের LED-র মধ্যে নীল আর সবুজ LED দুটো উজ্জ্বল হয়ে জ্বলছে আর লাল LEDটা বন্ধ।
  • সাদা : যে অংশে সাদা আছে, সেখানে প্রত্যেক লাল, সবুজ, নীল রঙের তিনটে LED-ই উজ্জ্বল হয়ে জ্বলছে।
          2D (2 Dimensional) বা দ্বিমাত্রিক বা সাধারণ LED পর্দার অনুভূমিক সারিগুলো ০.৩৬৪ মিলিমিটার চওড়া হয়। 3D (3 Dimensional) বা ত্রিমাত্রিক LED পর্দায় দুটি অনুভূমিক সারি নিয়ে একটি সারি তৈরী হয়, অর্থাৎ এই সারিগুলো ০.৭২৮ মিলিমিটার চওড়া হয়।
                            
          3D (3 Dimensional) বা ত্রিমাত্রিক LED পর্দার এক-একটা অনুভূমিক সারি যে দুটো সারি নিয়ে তৈরী, তার একটার বিকীরণ ৯০° তে Polarized করা এবং আর-একটার বিকীরণ ০° তে Polarized করা। ৯০° তে Polarized করা সারিগুলোতে ডানদিকের দৃশ্য দেখানো হয় আর ০° তে Polarized করা সারিগুলোতে বামদিকের দৃশ্য দেখানো হয়। দর্শক যে Polarized চশমায় দেখে, তার ডানদিকে ৯০° Polarity-র Polarizer বা Polarizing ফিল্টার এবং বামদিকে ০° Polarity-র Polarizer বা Polarizing ফিল্টার থাকে। সুতরাং Polarized 3D চশমার যেকোনো একদিক দিয়ে 3D LED পর্দার এক-একটা অনুভূমিক সারি যে দুটো সারি নিয়ে তৈরী, তার একটা দেখা যাবে, অন্যটা দেখা যাবেনা।
                     
          এইভাবে নির্দিষ্ট চোখের জন্য নির্দিষ্ট দৃশ্য আমাদের মস্তিষ্কে গিয়ে মিশলে আমরা 3D (3 Dimensional) Movie বা ত্রিমাত্রিক চলচ্চিত্র দেখতে পাই।



3D Cameras :
 




__________________________________
References :

Information :

Images :
Drawing & editing in Photodhop & Paint with Google images

No comments:

Post a Comment